খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ে সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে শেষ দুই–তিন দিন ধরেই চিকিৎসকরা কোনো আশাবাদী খবর দিতে পারেননি। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের তৎপরতা বেড়ে যায়। গভীর রাত ও ভোরজুড়ে পরিবারের সদস্য, দলের শীর্ষ নেতারা এবং চিকিৎসকরা হাসপাতালে অবস্থান করেন।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করে—বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতা, সাধারণ মানুষ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শোকে ভারী হয়ে ওঠে।
সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“জাতি একজন অভিভাবক হারালো। এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।”
এ সময় দলটির পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতালের সামনে সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। অনেককে চোখের জল ধরে রাখতে দেখা যায়নি। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের সব আয়োজন রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পন্ন করা হবে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তাকে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন।
মায়ের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে বলেন,
“আমার মায়ের প্রতি দেশবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় আমরা চিরকৃতজ্ঞ। আপনারা তার জন্য দোয়া করবেন।”
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনীতিকরাও শোক প্রকাশ করেছেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে শোক বইয়ে সই করেছেন ২৮টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন অবস্থান, গণতন্ত্রের সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত ত্যাগের কারণে খালেদা জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন—তিনি হয়ে উঠেছিলেন একটি রাজনৈতিক প্রতীক। জীবনের শেষ বিদায়েও তার প্রতি সেই সম্মান ও ভালোবাসাই প্রতিফলিত হয়েছে।
বাংলাদেশ এক ইতিহাসের সাক্ষী হলো—যেখানে একজন সাবেক সরকারপ্রধান দলমত নির্বিশেষে সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বিদায় নিলেন।