অসমাপ্ত বিআরটি প্রকল্পে অনিশ্চয়তায় ঢাকা বিআরটি কোম্পানি
বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প অসমাপ্ত অবস্থায় শেষ করার সরকারের সিদ্ধান্তে বিআরটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি (পিএলসি)-এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রকল্পটি চালু না হলে কোম্পানির কার্যত কোনো দায়িত্বই থাকবে না। বর্তমানে প্রকল্পের তহবিল থেকেই কর্মকর্তাদের বেতন ও পরিচালন ব্যয় মেটানো হয়, যা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
২০১২ সালে রাজধানীর যানজট নিরসন ও দ্রুতগতির গণপরিবহন নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার করিডর তৈরি করা হয় বিশেষ বাস চলাচলের জন্য। তবে এক যুগের দুর্ভোগ, ব্যয় বৃদ্ধি ও বিলম্বের পরও প্রকল্পটি শেষ হয়নি। শুরুতে ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৪০ কোটি টাকা, পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি টাকায়, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে ব্যয় হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ বাস চলাচলের ধারণা বাতিল করে করিডরের সড়ক সাধারণ যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ফলে ঢাকা বিআরটি কোম্পানি, যা মূলত বাস কেনা, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও আইটিএস সরঞ্জাম স্থাপনের দায়িত্বে ছিল, সেটির কার্যক্রমও থমকে গেছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নূরুল আমিন খান জানিয়েছেন, প্রকল্প স্থগিত হলে সরকারের নতুন নির্দেশনার ওপরই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।
ডিটিসিএ জানিয়েছে, কোম্পানিটিকে বিকল্পভাবে তাদের ‘ক্লিয়ারিং হাউস’ প্রকল্পে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান উপদেষ্টার সড়ক পরিবহন ও সেতুবিষয়ক বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন বলেন, “বিআরটি প্রকল্পে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। অবকাঠামো যেমন আছে তেমনই থাকবে। বিআরটি কোম্পানিও আপাতত আগের মতোই থাকবে, ভবিষ্যতে নতুন সরকার চাইলে এই কোম্পানিকে ব্যবহার করে সেবা চালু করতে পারবে।”
বৃহৎ কাঠামো হলেও অসমাপ্ত প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে ২৫টি স্টেশন, ৬টি ফ্লাইওভার, ৮টি অ্যাকসেস রোড, প্রায় ৫৬ কিলোমিটার নর্দমা ও ২৪ কিলোমিটার ফুটপাত। তবে প্রকল্প শেষ করতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা ও ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময় চাওয়া হলেও অনুমোদন না মেলায় সেটি বন্ধ করা হয়েছে।
বুয়েটের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, “বিআরটি একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবহনব্যবস্থা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ধারণাটি বাতিল হলে এটি ‘স্ট্রাকচারাল ওয়েস্ট’-এ পরিণত হবে। এখন বিআরটি কোম্পানির মানবসম্পদ ও সক্ষমতাকে অন্য পরিবহন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজে লাগানো জরুরি।”