আরপিও সংশোধন - জোটের প্রার্থী হলেও লড়তে হবে নিজেদের প্রতীকে
জাতীয় নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও এবার থেকে প্রার্থীদের নিজ নিজ দলের প্রতীকে লড়তে হবে—এমন বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। আগে জোটভুক্ত ছোট দলগুলো বড় দলের প্রতীকে লড়তে পারলেও এবার সেই সুযোগ বাতিল করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, এতে ভোটাররা সহজেই বুঝতে পারবেন কোন প্রার্থী কোন দলের।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায়, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে ভুয়া জোটের সংস্কৃতি কমবে। তবে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মনে করেন, এতে ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণ আরও কঠিন হবে।
আরপিওর নতুন সংযোজনগুলোর মধ্যে রয়েছে—
🔹 একক প্রার্থীর ক্ষেত্রেও ‘না ভোট’ দেওয়া যাবে এবং অধিক ‘না ভোট’ পেলে পুনর্নির্বাচন হবে।
🔹 সেনাবাহিনীসহ তিন বাহিনীকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🔹 পলাতক ঘোষিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
🔹 বিতর্কিত ইভিএম বাতিল করা হয়েছে।
🔹 প্রার্থীর সম্পদের বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।
🔹 নির্বাচনী জামানত ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
🔹 ৫০ হাজার টাকার বেশি অনুদান ব্যাংকিং চ্যানেলেই দিতে হবে।
🔹 প্রবাসী ও কারাবন্দী ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন।
🔹 সাংবাদিকরা ভোট গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক হবে।
সংশোধিত আরপিও কার্যকর হলে বাংলাদেশে নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোয় পরিচালিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।