সব চেষ্টা ব্যর্থ, চিরবিদায় ‘আপসহীন’ নেত্রী খালেদা জিয়া

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। ৮০ বছর বয়সে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও তিনি জানান।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। লিভার সিরোসিসসহ একাধিক শারীরিক জটিলতার কারণে তাকে বারবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি।

১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে রাজনীতিতে আলাদা পরিচিতি দেয়। ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খালেদা জিয়ার শাসনামলে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভ্যাট চালু, বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের শিক্ষা সম্প্রসারণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যকর হয়। একই সঙ্গে তার রাজনৈতিক জীবনে বিতর্ক, আন্দোলন, বিরোধিতা ও কঠিন সংকটও ছিল অনিবার্য অংশ।

কারাবাস, গৃহবন্দিত্ব, অসুস্থতা ও রাজনৈতিক চাপ—সবকিছুর মধ্যেও তিনি দলের নেতৃত্বে অবিচল ছিলেন। বিরোধী রাজনীতিতে থেকেও তিনি দীর্ঘ সময় দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছেন।

খালেদা জিয়া ছিলেন এমন এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি ক্ষমতায় থাকুন বা না থাকুন—বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রভাব অস্বীকার করার উপায় নেই। আপসহীন মনোভাব, দৃঢ় অবস্থান এবং সংগ্রামী জীবন তাকে ইতিহাসে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে স্থান করে দিয়েছে।

তিনি চলে গেলেও তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, সংগ্রাম ও আদর্শ দীর্ঘদিন বাংলাদেশি রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্র হয়ে থাকবে।

Listen and Watch the Story:

Tags: