গণতন্ত্রের উত্তরণে বিভাজন গভীরতর, অনিশ্চিত হচ্ছে পথচলা

গণ অভ্যুত্থান পরবর্তী সমাজগুলোতে প্রায়ই দেখা দেয় রাজনৈতিক বিভাজন, অপরাধ, দুর্নীতি ও নাগরিকদের হতাশা। এমন পরিস্থিতিতে শাসনব্যবস্থা উদারীকরণ থেকে সরে গেলে গণতন্ত্রের পথ সংকীর্ণ হয়ে পড়ে যার স্পষ্ট উদাহরণ তিউনিসিয়া ও মিসর।

আরব বসন্তের পর দেশ দুটিতে গণতন্ত্রের আশা জেগেছিল, কিন্তু আদর্শিক দ্বন্দ্ব, আস্থাহীনতা ও ক্ষমতার লড়াই সেই আশা নিভিয়ে দেয়। মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুড ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির সংঘাত শেষে সেনা অভ্যুত্থানে মুরসির পতন ঘটে, আর তিউনিসিয়ায় রাজনৈতিক অচলাবস্থা শেষে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ এখন এক অনিশ্চিত উত্তরণের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে—তিউনিসিয়া ও মিসরের মতোই রাজনৈতিক বিভাজন ও আস্থাহীনতা বাড়ছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ, নোট অব ডিসেন্ট ইস্যু ও গণভোট প্রসঙ্গ নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিএনপি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এমন আদেশ জারির এখতিয়ার নেই, আর জামায়াত দ্রুত গণভোট চায়। এদিকে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন—যদি এই বিভাজন গভীর হয়, তাহলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়বে।

তবে ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার আশাবাদী—তিনি মনে করেন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংস্কারের পথ উন্মুক্ত করবে এবং নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন সম্ভব হবে। যদিও অন্য বিশ্লেষকদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও আস্থা পুনর্গঠন—না হলে বাংলাদেশও তিউনিসিয়া বা মিসরের মতো অনিশ্চয়তার চক্রে জড়িয়ে পড়তে পারে।

Listen and Watch the Story:

Tags: